প্রিয় রাজশাহী ডেস্ক:
প্রশ্ন: আমার বয়স মাত্র ১৮ বছর। কিন্তু আমি ১৩ বছর বয়স থেকে হস্তমৈথুনে আসক্ত। মাঝে একটা সময় ছাড়তে পেরেছিলাম। কিন্তু এখন সমস্যাটা অনেক প্রবল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিত্রাণের উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।
উত্তর: হস্তমৈথুন আসক্তি নয়। এটি একটি সাধারণ যৌন প্রক্রিয়। এটি সম্পর্কে প্রচলিত নেচিবাচক ধারণা সঠিক নয়। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে পুরুষের মধ্যে হস্তমৈথুনের অভ্যাস স্বাভাবিক। সুতরাং হস্তমৈথুন নিয়ে আপনার উদ্বেগের তেমন কিছু নেই। পঁচানব্বই শতাংশ পুরুষ এবং সত্তর শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশায় কোনও না কোনও পর্যায়ে হস্তমৈথুন করে। যদিও চিকিৎসা পেশাজীবী এবং বিজ্ঞানীরা প্রচুর প্রমাণ পেয়েছেন যে হস্তমৈথুন স্বাস্থ্যকর, তথাপি অনেক মানুষই একে কলংকজনক অভ্যাস মনে করে। হস্তমৈথুন করে এমন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষদের অর্ধেকই এর জন্য অপরাধবোধে ভোগেন যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আপনার মধ্যে তারপরেও যদি হস্তমৈথুন নিয়ে অহেতুক উদ্বেগ-উৎকন্ঠা তৈরি হয় তাহলে ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন, ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ এবং আধুনিক মনোভাবাপন্ন কোনও কাউন্সেলর বা মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
প্রশ্ন: আমি দীর্ঘদিন যাবত অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের ভুগছি সাথে বিষণ্ণতা এবং শুচিবায়ু রোগও আছে। আমি দীর্ঘ ১২/১৩ বছর ধরে এই রোগে ভুগছি। সময়ে সময়ে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খেয়েছি। ওষুধ খেলে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসি। ওষুধ ছেড়ে দিলে ফের উপসর্গগুলো আসে। দীর্ঘদিন ওষুধ খেলে শরীরর অনেক খারাপ লাগে এবং দুর্বল লাগে। গত ৪/৫ মাস যাবত ওষুধ ছেড়ে দিয়েছি। আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি, প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে। কিন্তু কাজের অতিরিক্ত চাপ আমি নিতে পারি না। আমার মানসিক অবস্থা ঢালমাটাল হয়ে যায়। আমার বযস ৩৫ বছর, বিবাহিত। আমাকে একটি সুপরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর: আপনার অ্যাংজাইটি, বিষণ্ণতা এবং শুচিবায়ু রোগ আসলে একই সমস্যার বিভিন্ন পর্যায় বা স্পেকট্রাম। এর শুরু হয় মূলত অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ-উৎকন্ঠা থেকে। আপনার ভেতরে সম্ভবত আগে থেকে কিছুটা অ্যাংজাইটি প্রবণতা রয়েছে। বংশগতভাবেও কারো কারো মধ্যে অ্যাংজাইটি বা শুচিবায়ু প্রবণতা থাকতে পারে। শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর না হয়ে আপনার সমস্যা মোকাবিলার করার জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করলে আপনি উপকৃত হবেন-
১। দুশ্চিন্তার পৌনঃপুনিক চক্র থেকে বেরিয়ে আসুন: আপনি যে অমূলক দুশ্চিন্তা রোগে ভুগছেন তা থেকে প্রাথমিক অবস্থায় নিজের চেষ্টায় বের হয়ে আসাটা একটু কঠিন। কারণ, আমরা যতই এ ধরনের দুশ্চিন্তা দূর করার চেষ্টা করবো, ততোই তা আমাদেরকে গ্রাস করবে। এই চক্র থেকে বের হতে হলে প্রথমে আপনাকে দুশ্চিন্তার সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করতে হবে। কারণ এ যুদ্ধে কখনোই আপনি জিততে পারবেন না
২। নিজের মধ্যে আসা সব ধরনের আবেগ অনুভূতিকে মেনে নিন: প্রথমে আপনাকে মনের মধ্যে আসতে থাকা অহেতুক দুশ্চিন্তাসহ সব ধরনের আবেগ, অনুভূতি, চিন্তা ও দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা এবং শুচিবায়ু সমস্যাকে মেনে নিন, এদেরকে আপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে আপন করে নিন। যখন আপনি আপনার অহেতুক দুশ্চিন্তার সাথে যুদ্ধ করা ছেড়ে দেবেন, তখন আপনার ভেতরে ধীরে ধীরে একটা প্রশান্তি চলে আসবে। এভাবে চর্চা করতে থাকলে আপনি একসময় অহেতুক দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতাকে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করতে পারবেন।
৩। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ: স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। যোগা, ধ্যান, দীর্ঘশ্বাস নেওয়া ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে মনোবল বাড়ান।
৪। স্ট্রেস হ্রাসের উপায় শিখুন: ধ্যান, প্রাণায়াম, সংগীত বা কার্যক্রম চর্চা করুন যা আপনাকে শান্তি ও স্বাস্থ্যকর মনোভাব দেবে।
৫। ব্রিদিং এক্সারসাইজ: শ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। শ্বাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। মনে মনে ১-২-৩-৪ গুনতে গুনতে গভীর শ্বাস নিন। তারপর মনে মনে ১-২-৩-৪ গুনতে গুনতে শ্বাস ধরে রাখুন। সবশেষে মনে মনে ১-২-৩-৪-৫-৬ গুনতে গুনতে পেট ভেতর দিকে টেনে নাক দিয়েই ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। যখনই মনে হবে তখন একটানা কয়েবার এ রকম করুন।
৬। নিজের পরিচর্যা করুন: নিজের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন। শ্রান্তি নিন এবং সুস্থ খাবার খান। মেডিটেশন করুন। যথেষ্ট ঘুম নিশ্চিত করুন।
৭। সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করুন: সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি করে অংশগ্রহণ করুন। বিভিন্ন সেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন। দেখবেন আপনার অ্যাংজাইটি, শুচিবায়ু সমস্যা এবং বিষণ্ণতা কমে গেছে।
৮। ধৈর্য ধরুন: ধৈর্যশীলতা বজায় রাখুন এবং যেকোনো পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকুন। দেখবেন সকল অহেতুক দুশ্চিন্তা থেকে আপনি বের হয়ে আসতে পেরেছেন।
৯। কাউন্সেলর বা চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন: যদি আপনার সমস্যাগুলো বেশি দিন ধরে চলে বা আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর তা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, তাহলে একজন কাউন্সেলর বা মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।