নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকদের ব্যানারে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাজশাহী নগরীর উপকন্ঠ কাটাখালিস্থ শ্যামপুরে অবস্থিত রাজশাহী জুট মিলের বাইরে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১২টায় সমন্বয়ক পরিচয়ে শ্রমিক-জনতাদের নিয়ে জুটমিলের প্রধান ফটকের সামনে মানবন্ধন করেন তারা।
জুটমিলটি দীর্ঘ চারবছর ধরে বন্ধ থাকার পরেও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাসের পর মাস বেতন-ভাতা প্রদান সাপেক্ষে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে শ্লোগানে আন্দোলনকারিরা শ্লোগান তোলেন। তাই সরকারি অর্থের এই অপচয় বন্ধের দাবি তোলেন তারা। ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ঐ বছরের জুলাই মাসের বেতন সহ অন্যান্য বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধের দাবিও তোলেন তারা। বছরের পর বছর অকার্যকর অবস্থায় পরে থাকার কারণে মিলের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে দাবি করে তারা বলেন, অতিশীঘ্রই মিলটি পুণরায় চালু করে ঐসকল রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলো ধ্বংসের হাত রেখে রক্ষা করতে হবে। বন্ধ থাকা জুট মিলটি পুণরায় চালুর মাধ্যমে স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তাদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয় মানবন্ধন ও স্বারকলীপ প্রদানের মাধ্যমে।
আন্দোলনকারিরা জুটমিলের পরিচালক শরিফুল কবির (প্রকল্প প্রধান) এর কাছে দাবিদাওয়া সংশ্লিষ্ট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরবর্তীতে উক্ত স্মারকলিপি বিজেএমসি’র কর্তাদের কাছে প্রেরণের অনুরোধ করেন আন্দোলনকারিরা। পরিচালক শরিফুল কবির আন্দোলনকারিদের সাথে আলাপকালে বলেন, ২০২০ সালে জুটমিলটি সরকার থেকে বন্ধ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ২ দুই হাজার ৪০০ জনের মতো স্থায়ী ও বিভিন্ন ক্যাটগরির শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। এখনও যাদের দেনাপাওনা পরিশোধ করা হয়নি সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাকরি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন। জুটমিলের সরকারি সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য বর্তমানে ১৩২ জন কর্মকর্তা ও স্কুলের জন্য ৮ জন শিক্ষক এখানে কর্মরত আছেন।