নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আলু উৎপানদকারী অঞ্চল হিসেবে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত চাষিরা।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পবা উপজেলার নওহাটা, বাগসারা, পাইকপাড়া, সোনারপাড়া, মহানন্দাখালী, বড়গাছী, পারিলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চাষিরা আলুর খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও পানি দিচ্ছে, কেউ স্প্রে দিচ্ছে আবার কেউ আগাছা পরিস্কার করছে। আলুর খেত দেখে মন ভালো হলেও ন্যায্য দাম আর আলু সংরক্ষণে হিমাগার সংকট সৃষ্টি না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। চাষিরা বলছেন, বাজারে এখন নতুন আলুর দাম কম।
এ কারণে আলু আবাদের খরচ তুলতে পারছেন না তারা। আগাম জাতের আলু হিমাগারে সংরক্ষণযোগ্য নয় বলে বর্তমান দামেই তারা বিক্রি করে দিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ১০ লাখ টন আলু ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এ মাসের শেষ থেকে আলু সংগ্রহ চলবে মার্চ পর্যন্ত। বিগত কয়েক বছর বাজারে আলুর দাম ছিল চড়া। এ কারণে এবার আলু চাষে বেশি ঝুঁকেছেন রাজশাহীর চাষিরা।
গত বছর ৩৪ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল ৯ লাখ ৪০ হাজার ৫৩২ মে. টন। এবার আলুর আবাদ বেড়ে হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। তাই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন। এবার উৎপাদনও হয়েছে ভালো। ইতোমধ্যে আলু উঠতে শুরু করেছে।
পবার সোনারপাড়া গ্রামের আলুচাষি ইয়ামিন জানান, আমি এই বছর ৩ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। এবার আলুর মৌসুমের ফলন ভালো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আলু নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে না।
পবা উপজেলার শ্রীপুর এলাকার আলু চাষি আজাদ আলী জানান, এবার তিনি ২০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। ভালো ফলন হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। আগাম কিছু আলু বিক্রি করে দামও ভালো পেয়েছেন। তবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় আলু ক্ষেতে রোগ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
গোদাগাড়ী উপজেলার আলু চাষি তসলিম উদ্দিন জানান, গত বছর প্রতি বিঘায় ৮০ থেকে ৯০ মণ করে হয়েছে। এবার আলুর ফলন আরও বেশি হবে। এবার বিঘাতে ১০০ থেকে ১২০ মণ আলু পাওয়ার আশা করছেন। সেই হিসাবে এবার রাজশাহীতে ১০ লাখ টন আলু উৎপাদিত হবে।
পবা উপজেলার আলু চাষি নাজমুল ইসলাম জানান, বর্তমানে আগাম জাতের আলু খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে। আলু উঠতে আরও সময় লাগবে। ফলে আলুর দাম পড়ে যাওয়ার শঙ্কায় তারা।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে ছালমা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমিতে আলুর চারা ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এবারও আলুর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা তাসনিম জানান, অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের সময়োপযোগী পরামর্শ ও কৃষকের সঠিক পরিচর্যায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।